মাদক জীবনকে বিষিয়ে তোলে। শরীরে আনে অবসাদ। মস্তিষ্ককে করে বিকৃত। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে জন্ম দেয় যে কোনো অপরাধের। করে তোলে সমাজের জঘন্যতম ঘৃণ্য ব্যক্তি।
যে বস্তু মানুষকে অপ্রকৃতিস্থ করে ফেলে, স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে, সেটাই মাদক। মাদকের পুরোটাই নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলে। তাই মাদককে অবৈধ ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বিধিমোতাবেক তা বহন এবং গ্রহণ নিষিদ্ধ ও আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। তবুও দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। মাদক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করায় বাংলাদেশ মাদকের বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া সহজে পাওয়া যাচ্ছে যেকোনো মাদক। ফলে দিন দিন বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদক যুবসমাজের জন্য অভিশাপ। মাদক পরিবারে বয়ে আনে অশান্তি। সমাজে আনে বিশৃঙ্খলা। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যক্তি। সর্বোপরি জাতিকে নিয়ে যায় ধ্বংসের শেষপ্রান্তে। বেকারত্ব, হতাশা ও কৌতূহল ইত্যাদি নানাবিধ অজুহাত দিয়ে মাদক গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠছে যুবসমাজ।
দেশের পুরুষের পাশাপাশি দিন দিন নারীদের মধ্যেও এ প্রবণতা বাড়ছে। বর্তমানে আর আগের মতো সরাসরি মাদক ক্রয় করতে হয় না। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, অনলাইনের বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে অবাধে মাদক সংগ্রহ করা যাচ্ছে। করোনাকাল থেকে মাদকের হোম ডেলিভারিও ক্রমে বাড়ছে। মদ, গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ফেনসিডিল, মরফিন, কোকেন, এলএসডি আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। মাদক ব্যবসায়ীরা দিব্যি আরামে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রাতারাতি লাভবানও হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রীয়, সামজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের অভাবে আজ অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে যুবকরা।
আমাদের সমাজে যতগুলো অন্যায়, অপরাধ বা অপকর্ম সংঘটিত হয়, তার পেছনে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের পেছনেও মাদকের বিশাল ভুমিকা আছে। কারণ মাদক এমন এক বস্তু যা একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকেও অস্বাভাবিক আচরণ করতে উৎসাহিত করে। সমাজে চুরি, ডাকাতি, খুন, ছিনতাই, রাহাজানি ও দুর্নীতির মতো জঘন্যতম অপরাধের সঙ্গেও মাদকের সংশ্লিষ্টতা কম নয়।