এ্যাডিকশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এ এম সি) এর কার্যক্রম

এ্যাডিকশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এ এম সি) এর কার্যক্রম

এ্যাডিকশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এ এম সি) একটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা পেশাদার চিকিৎসক, কাউন্সেলর এবং থেরাপিস্টের সাহায্যে মাদক থেকে মুক্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে আবাসিকভাবে বিভিন্ন ধাপে চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণ করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্ত রোগীদের শরীর ও মনের উপর মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবগুলোকে প্রশমিত করার মাধ্যমে তাদের সমাজে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির উপযোগী করে তোলে হয়। মাদকাসক্তি একটি অত্যন্ত জটিল এবং ধ্বংসাত্মক মানসিক ও শারীরিক অবস্থা। মাদকাসক্তির কারণে ব্যক্তি তার দৈনন্দিন জীবনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং তার চারপাশের মানুষ, যেমন পরিবার ও সমাজ, চরম বিপদে পড়ে।

এ্যাডিকশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এ এম সি) মাদকাসক্তদের সঠিক চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। এই সেন্টারে রোগীরা পুরোপুরি মাদক থেকে বিরত থাকে এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও সাইকোথেরাপি গ্রহণ করে। এটি সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল নিয়মাবলীর মধ্যে পরিচালিত হয় এবং রোগীদের প্রতিনিয়ত নজরদারিতে রাখা হয়। রোগীরা এখানে নিয়মিত কাউন্সেলিং সেশনে যোগ দেয় এবং তাদের চিকিৎসার মেয়াদ শেষ হলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে যায়।

এ্যাডিকশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এ এম সি) – মাদকাসক্তদের জন্য বেশ কিছু ধাপের মাধ্যমে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে। এই প্রক্রিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো:

ডিটক্সিফিকেশন (নির্বিষকরন)

ডিটক্সিফিকেশন হলো প্রথম ধাপ যেখানে মাদকাসক্তদের শরীর থেকে মাদকের ক্ষতিকর উপাদানগুলো ধীরে ধীরে দূর করা হয়। এটি একটি জটিল এবং কঠিন প্রক্রিয়া, যেটি মাদক প্রত্যাহারের উপসর্গগুলোকে সামাল দেওয়ার জন্য পেশাদার চিকিৎসকের অধীনে পরিচালিত হয়।

কাউন্সেলিং  সাইকোথেরাপি

এখানে মাদকাসক্তদের জন্য বিভিন্ন ধরনের মানসিক থেরাপি এবং কাউন্সেলিং সেশন পরিচালনা করা হয়। এতে ব্যক্তিগত এবং দলগত সেশন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই সেশনগুলো রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং তাদের আসক্তির মূল কারণগুলো চিহ্নিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আচরণগত থেরাপি

আচরণগত থেরাপি মাদকাসক্ত ব্যক্তির ভুল বা ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করে এবং সেগুলো পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। এই থেরাপির মাধ্যমে রোগীরা নতুন ইতিবাচক জীবনধারা শেখে এবং পুনরায় মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে রাখতে সক্ষম হয়ে উঠে।

পারিবারিক থেরাপি

মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তির উপরই নয়, তার পরিবারের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। পারিবারিক থেরাপি মাদকাসক্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদেরকে সাহায্য করে যেন তারা রোগীকে সঠিকভাবে সহায়তা করতে পারে এবং সম্পর্কগুলোর উন্নতি ঘটাতে পারে।

মেডিকেশন থেরাপি

কিছু ক্ষেত্রে, মাদকাসক্তদের শরীর এবং মনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এই মেডিকেশন থেরাপি রোগীর শারীরিক এবং মানসিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়।

সর্বোপরি এ্যাডিকশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারে মাদকাসক্তরা শিখতে পারে কীভাবে তাদের আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে হয় এবং তারা সমাজে কিভাবে পুনর্বাসিত হতে পারে। এখান থেকে তারা তাদের জীবনকে নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ লাভ করে এবং ভবিষ্যতে মাদক থেকে দূরে থাকার কৌশল শিখে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং একজন সুস্থ ও সফল মানুষ হিসাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এ্যাডিকশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিষ্ঠানটি মাদকাসক্তদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে এবং তাদের মাদকমুক্ত জীবনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়ক হয়।

Related Post

মানুষ কখন নেশার ফাঁদে পড়ে?
রমজান মাসে রোজা রাখার উপকারিতাগুলি কী কী?
মাদকাসক্তি অন্য দশটা রোগের মতো একটা রোগ।
ইসলাম, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মসহ সকল ধর্মে মাদক সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ!
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদক !
চাই ধূমপানমুক্ত একটি  সুন্দর  বাংলাদেশ।