আরো স্পষ্ট করে বললে মাদকাসক্তি একটি মানসিক রোগ বা মস্তিষ্কের রোগ।
যারা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি, তারা একবার মাদক সেবন করলে আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কার্যত তাদের শরীর ও মন পরবর্তীতে তার মাদক নেয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকে মাদকাসক্তি চালিয়ে যেতে বাধ্য করে। দীর্ঘদিন মাদক সেবনে মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ছাড়া ভালো করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়াও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়, যা তাদের পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে।
মূলতঃ মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পরিবারের ভুমিকাই মুখ্য। মাদক নেয়া থেকে বিরত রাখতে হলে অবশ্যই সন্তানদের সময় দিতে হবে। বন্ধুর মতো আচরণ করতে হবে। সন্তান কোথায় যায়, কাদের সাথে মেলামেশা করে করে তার খবর রাখতে হবে। পড়াশোনার উন্নতিতে নজর দিতে হবে। পরিবারে মাদকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। মাদকের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে।
মনে রাখতে হবে, মাদকের শুরু হয় সিগারেট দিয়ে। পরবর্তীতে তা মদ ও গাঁজায় গড়ায় এবং তারপর অন্যান্য কঠিন নেশার কবলে পড়ে। তাই সিগারেটের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কঠোর করতে হবে। পরিবারে সিগারেটের প্রভাব কমাতে হবে বা বন্ধ করতে হবে। সন্তান যেন কম বয়সে সিগারেটের মজা না পায় তা খেয়াল রাখতে হবে। এতে করে অন্য নেশায় জড়িয়ে যাবার ঝুঁকিও কমে যাবে। যেহেতু মাদকাসক্তির সঙ্গে আচরণের সম্পর্ক আছে, তাই আচরণগত দিক থেকে খারাপ রোগীরা সবসময়ই মাদকাসক্তির ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। পরিবার সচেতন হলে মাদকের ব্যবহার কমে যাবে। আর মাদকের ব্যবহার কমলে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকাসক্তিও কমে যাবে।